সিদ্ধিরগঞ্জে কাউন্সিলর হাসানের সহযোগীরা অবৈধ গ্যাস সংযোগে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ টাকা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি : গ্যাস লাইনের সংযোগ নিতে হলে দালালদের ত্রিশ হাজার টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে গ্যাস লাইন নেওয়া সম্বব নয়। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের টাকা দিয়ে গ্যাস সংযোগ নিতে হচ্ছে। কথাগুলো বললেন, নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ আটি এলাকার মিজি ভবনের কেয়ারটেকার মফিজ মিয়া। তিনি বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলরের আত্মীয় শাহরিয়ার তপন ও মোস্তফা মিয়া নামে দুই ব্যক্তি অবৈধভাবে শতাধিক গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচেছন। কেয়ারটেকার মফিজ বলেন, কেউ যদি এ ঘটনা জানায় তাহলে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন চলাবে কাউন্সিলরের লোকেরা।

সিদ্ধিরগঞ্জের আটি-হাউজিং এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের অধীনে রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। রাস্তার পাশ দিয়ে গ্যাস লাইন থেকে রাতের আধারে চুরি করে অবৈধ ভাবে গ্যাসের সংযোগ দিচেছন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। এ অবৈধ সংযোগের সাথে জড়িত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের-৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানের খালাতো ভাই শাহরিয়ার তপন, ও কাউন্সিলরের সহযোগী মোস্তফা মিয়াসহ একটি সিন্ডিকেট।

খবর নিয়ে জানাযায়, তিতাস গ্যাসের কোন কর্মকর্তাকে না জানিয়ে তারা অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। শুধু তাই নয় হাউজিং এলাকায় ভবন নির্মাণ করার সামগ্রী (ইট, বালু, সিমেন্ট,রড)সহ সকল সামগ্রী ওই সিন্ডিকেটের কাছ থেকে নিতে হবে বাধ্যতামূলক।

এলাকাবাসীরা জানায়, গত দুই মাস ধরে হাউজিং এলাকায় প্রায় ৪/৫টি সড়ক ও ড্রেন নির্মানের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তার পাশে গ্যাস লাইন থেকে বিভিন্ন বাড়ি মালিক তাদের জমিতে গ্যাস সংযোগ নেওয়ার জন্য তপন ও মোস্তফাকে প্রতি সংযোগ থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার করে টাকা দিতে হচ্ছে। প্রায় শতাধীক অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে পঁচিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্রটি। আর সংযোগ না নিলে পরে সিটি কর্পোরেশন থেকে রাস্তা কেটে গ্যাসের সংযোগ নিতে প্রায় দুই লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানান তারা। এই ভয়েই সবাই তড়িগড়ি করে তপন ও মোস্তফার ফাঁদে পা দিয়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নিচ্ছেন।


হাউজিং এলাকার ভাড়াটিয়া মনির হোসেন জানান, হাউজিং এলাকায় কোন জমি বিক্রি হলে তপন ও মোস্তফা সিন্টিকেটকে দিতে হয় ৫ থেকে ৮ লাখ টাকা। জমির দাম যাই হউক জায়গা রেজিষ্টি হওয়ার আগেই এই বাহিনীর হিসাব আগেই চুকাতে হবে না হয় জমি রেজিষ্টি হবে না। তিনি বলেন, এই বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী অসহায়।


হাউজিং এলাকার সুমাইয়া প্লাজার মালিক আবু হোসেন জানান, রাস্তা ১৬ ফুট প্রশস্ত করার কথা থাকলেও বিভিন্ন অযুহাত দেখিয়ে রাস্তা সাড়ে ১৫ ফুট করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একাধারে ৪/৫ রাস্তা কেটে মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। তিনি বলেন, অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই তারা রাস্তাগুলো কেটে ফেলে রেখেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহরিয়ার তপন ও মোস্তফা মিয়া জানান, আমরা যা করছি তিতাস গ্যাসের লোকদের সাথে সমন্বয় করে করছি। ইট, বালি সিমেন্টসহ সকল নির্মাণ সাসগ্রী তাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা এসকল নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবসা করি এ কথা সত্য। তবে আমাদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে মালামাল নিতে হবে এ কথা সত্য নয়।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আরিফুল হক হাসানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোনটি রিসিভ করেন নি। পরে তাকে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠালেও তিনি কোন প্রতি উত্তর করেন নি।

তিতাস গ্যাস ট্টান্সমিশন এন্ড ডিষ্ট্রিবিউশন (টিএন্ডডি) কোম্পানীর নারায়ণগঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানাজার ফয়জুল ইসলাম জানান, হাউজিং আটি এলাকায় কে বা কারা গ্যাসের লাইন বসাচ্ছে বিষয়টি আমাদের জানা নেই। গ্যাস কোম্পানীর পাইপ থেকে অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দেওয়া কোন ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যে সকল দালালরা অবৈধ ভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে খুব শিগ্রই মামলা গ্রহনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন বলেন, যে সকল অবৈধ ব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করার জন্য অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হবে।

সূত্র- দৈনিক কালের কন্ঠ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

Back to top button