সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার আদিবাসী মিনতি ওরাওকে দেশে ফেরত আনতে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রিক্রুটিং এজেন্সি এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের (আর এল নং-১১৬৬) মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়ে নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশী আদিবাসী শ্রীমতি মিনতি ওরাওকে দেশে ফেরত আনার জন্য সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। গত ১৪ মার্চ রবিবার দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানার চৌধুরী গোপালপুর এলাকার কোমল ওরাওয়ের ছেলে ও প্রবাসে নির্যাতিতার বোনের ছেলে সোহেল ওরাও বাদী হয়ে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র সচিব, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহা-পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) ও জনশক্তি কর্মসংস্থানের মহা-পরিচালক সহ বিভিন্ন দপ্তরে এ অভিযোগটি দায়ের করেছেন।

অভিযোগে সোহেল ওরাও উল্লেখ করেছেন, তার খালা শ্রীমতি মিনতি ওরাও গত ২০১৭ সালের ২৩ এপ্রিল তারিখে বিএমইটি’র বর্হিগমন ছাড়পত্র (ছাড়পত্র নং-এসএ-আই-২০১৭-০৩০৩৩৮১) নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি এমএইচ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে সৌদি আরব গমন করে। যাওয়ার আগে তাকে মিশনের কাজে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা যায় এবং এ বাবদ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক মকবুল হোসেন এবং স্টাফ আকমল হোসেন আমার খালার কাছ থেকে ৮০,০০০ টাকা নেয়। সৌদি আরব যাওয়ার পর আমার খালা জানতে পারে তাকে গৃহকর্মীর কাজে পাঠানো হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে নিয়োগকর্তার বাসায় কাজ করলেও তাকে ঠিকমত বেতন দেয়া হয় না। বেতন চাইলে মারধর করা হত। এ পর্যন্ত তার ৯ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও ৯ মাস ধরে আমরা কোন ভাবেই তার সাথে যোগাযোগ করতে পারছি না।


এদিকে, তার দুই বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর কোন ব্যবস্থাই করা হচ্ছে না। আমরা তাকে নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। উল্লেখ্য, আমার খালাকে দেশে ফেরত আনার কথা বলে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও তার কর্মচারী আকমল হোসেন আমাদের কাছ থেকে ৩০,০০০ টাকা নিলেও এখনও তাকে দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করা হয়নি।

গত ২০১৯ সালের ২৮ এপ্রিল এ ব্যাপারে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করি এবং পরে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা আমাকে ডেকে বলে যে, তোমার খালাকে দুই মাসের মধ্যে বিদেশ থেকে ফেরত আনিয়া দিব। এই বলে দীর্ঘ দুই বছর পার হয়ে গেলেও এই পর্যন্ত কোন খবর নাই। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা এই ব্যাপারে কথা বলতে নিষেধ করে এবং উল্টো আরো আমাকে হুমকি দেয়। তারা বলে আমরা কিছুই জানি না। এর কিছু দিন পর আমার খালা গোপনে ফোন করে বলে যে আমাকে জেদ্দায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তাই যে ভাবেই হোক আমাকে বাংলাদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা কর। এই কথা বলার পরে আমার খালার সাথে আর কোন যোগাযোগ নেই।

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে তার খালাকে বকেয়া বেতন আদায়সহ দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

Back to top button