‘কিছু দুষ্ট মানুষ আমার পেছনে লেগে গেছে’ (ভিডিও)

কারোনা মহামারীর সময় দেশের মানুষের সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এসেও মন ভালো নেই ডা. ফেরদৌস খন্দকারের।

রোববার বিকালে বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া বিমাবন্দরে এসে ‌‘অপ্রীতিকর’ পরিস্থিতির শিকার হওয়া ও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ‘অপপ্রচার’ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী এই চিকিৎসক।

সোমবার সকালে ফেসবুক লাইভে ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘আজ আমি আমার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ থেকে বলছি। গতকাল বিকালে এসেছিলাম এক বুক আশা নিয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াব বলে। আসার পর এয়ারপোর্টে বুঝতে পারলাম যে কিছু দুষ্ট মানুষ আমার পেছনে লেগে গেছে। যেহেতু আমার নামের পেছনে খন্দকার আছে সেহেতু তারা প্রচার করতে চেয়েছে আমি খুনি মোস্তাকের আত্মীয়, বলতে চেয়েছে খন্দকার রশিদেরও আত্মীয়। এসব নিয়ে খুব বেশি আমি চিন্তা করতে চাই না। তারপরও আমি আসছি। এরপরও আমি কথা বলব। আপনারা ভালো আছেন দেশবাসী? যুক্তরাষ্ট্রেও বাঙালি কমিউনিটির পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। যদিও ডিফিকাল্টি ছিল প্রথমে। আমি আপনাদের পাশে থাকব, আপনারা আমায় গ্রহণ করবেন তো। আপনাদের পাশে আছি এই ক্রান্তি কালে।’

তিনি বলেন, ‘আমি আটটি স্যুটকেস নিয়ে এসেছিলাম। বেশকিছু মাস্ক, গ্লাভস, পিপিই ইত্যাদি সামগ্রী ডাক্তার নার্সদের দেব বলে। কিন্তু এয়ারপোর্টে আটকে দিল। ট্যাক্স নাকি দিতে হবে। রেখেই দিল। আনতে পারিনি। আপনাদের কেউ যদি থাকেন ছাড়াতে পারবেন। ছাড়িয়ে নিয়ে যান। ফ্রন্টলাইনের যে কাউকে দিতে পারেন। আমার কোনো দাবি নেই, আমি এসেছি আপনাদের পাশে, আমি কাজটুকু করতে চাই। আপনাদের মধ্যে যদি কেউ পারেন ছাড়িয়ে সেসব যেকোনো একটি হাসপাতালে দিয়ে দিতে পারেন। আমার কোনো দাবি নেই।’

ফেরদৌস বলেন, ‘আমি পরশুদিন থেকে রিয়েল করোনা নিয়ে কথা বলব। আমার পরিবার নিয়ে কথা উঠেছে। দুটো কথা না বললেই নয়। আমার দাদা ১৯৪৯ সনে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। তখন আমার বাবার বয়স খুবই কম, মাত্র চার। আমার বাবারও আমার দাদার স্মৃতি মনে নেই। আমার দাদা এক সন্তান ছিলেন, উনার দাদাও এক ছেলে ছিলেন, (নাম) রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার। আমরা কুমিল্লার দেবিদ্বারের খুবই ছোট একটি গ্রামে থাকতাম। আমার নানী আমার বাবাকে উনার মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দেন। বাবা এয়ারফোর্সে ঢোকেন। আমাদের পরিবারে আমি আর আমার ছোট দুটি বোন। আমরা শহরে চলে আসি। পরে আমরা আমেরিকা চলে যাই।’

নানার পরিবার সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের গ্রাম মুরাদনগরে। আমার নানা ছিলেন, কৃষ্ণপুর গ্রামের। আমার নানা ছিলেন সামরিক বাহিনীতে অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টে। উনার ছয় ছেলে, এক মেয়ে। উনার ছেলে (ফেরদৌসের মামা) ওখানকার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। পরে ফার্মাসিস্ট হয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন। আমেরিকাতে সেটেল্ড। দ্বিতীয় ভাই উনার মরহুম রেজা। খুব নামকরা মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকারে বনানীতে। বাকি চার মামা আমেরিকা থাকেন। আমার চার নম্বর মামার নাম মোস্তাক আহমেদ। তিনি জীবিত আছেন। বয়স ৫৩। এই মোস্তাকের সঙ্গে কিছু দুষ্ট লোক আমাদের খন্দকার যুক্ত করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আবার খুনি রশিদের সঙ্গে নাম যুক্ত করে দিয়েছে। মানুষ যার যা যা ইচ্ছা বলতে পারে। কালিমা লাগাতে চেষ্টা করে। আমার মন্ত্রী, এমপি হওয়ার ইচ্ছে নেই।’

ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘আমাকে যারা চেনেন, যারা জানেন, আমি অনেক ছোটবেলা থেকে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করি। যাই হোক, খন্দকার নাম হলেই সেটা মোস্তাকের ফ্যামিলি, অথচ লাখ লাখ লোক বাংলাদেশে আছে। তাই না? এটি কী লজিক বলুন আপনারা? এরকম একটি অভিযোগ দিয়ে আমি ঘরের মধ্যে বন্দি। আমি আজীবন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। আমি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। তার মানে আমি বিরোধী মতের সমালোচনাতে আটকে যাইনি। আমি শুধু মুখেই বলিনি, আমি আমার পরিবারকে পেছনে ফেলে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে এসেছি। আমি কিন্তু জানিও না, বাংলাদেশে চলে এসেছি। কবে প্লেন খুলবে জানি না। শুধু আপনাদের টানে এসেছি।’

কোয়ারেন্টিনে রাখা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমার ব্লাড টেস্টে এসেছে অ্যান্ডিবডি পজিটিভ, আমার কিন্তু কোয়ারেন্টিনের প্রয়োজন নেই। আমি কাকে বোঝাব বলুন। এই ল্যান্ডের হয়তো এটাই নিয়ম, আমি শুধু বলব আমি এসেছি। আমি এসেছি, আমার মতো এই দুটি হাত না থাকলেও হয়তো কিছু হবে না। এরকম অজস্র হাজার সহস্র ফেরদৌস খন্দকার আপনাদের মাটিতে আছে। তাও বুকের ভেতর সে ভালোবাসা নিয়ে আমি এসেছি। আমাকে ভালোবাসা না দেন, ধিক্কার না দেন। আমি একজন মানবদরদী, ডাক্তার হয়ে, মানুষ হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্ত করব। বিরুদ্ধচারণ হচ্ছে, আমি এই ভূখণ্ডে থেকে ফাইট করব, আপনাদের পাশে দাঁড়াব, আমৃত্যু আপনাদের সঙ্গে আছি। আশা করি আপনারাও আমাকে গ্রহণ করবেন সেভাবে।’

প্রসঙ্গত নিউইয়র্ক প্রবাসী বাংলাদেশি ডাক্তার ফেরদৌস খন্দকার ম্যানহাটনের প্রাচীনতম মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

করোনাকালে মৃত্যুপুরী নিউইয়র্কে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে ‌‌‌‌সুপার হিরো বনে যান ‌ডা. ফেরদৌস। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে রোববার তিনি দেশে ফেরেন।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

Back to top button